সূরা আল ওয়াক্বিয়াহ্-র বঙ্গানুবাদ

813 0

•✦✨﷽ ✨✦•

(বলো! আমি) আল্লাহর নামে (শুরু করছি), যিনি রহমান (পরম করুণাময় সকল সৃষ্টির জন্যে), যিনি রহিম (অসীম দয়াবান কিছু বিশেষ ব্যক্তির জন্যে)।

❇যখন মহা ঘটনা (ক্বিয়ামত) সংঘটিত হবে(০১)

❇তখন সেই মহা ঘটনা অস্বীকার করার কেউ থাকবে না।(০২)

❇এ ঘটনা কাউকে করবে নীচ, কাউকে করবে সমুন্নত।(০৩)

❇যখন প্রবল কম্পনে প্রকম্পিত হবে ভুমন্ডল(০৪)

❇এবং পবর্তমালা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পড়বে।(০৫)

❇ফলে তা বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত হবে।(০৬)

❇আর তোমরা (সে সময়ে) তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে পড়বে।(০৭)

❇(প্রথম দল) সৌভাগ্যবানদের দল! কতই না সৌভাগ্যবান তারা।(০৮)

❇এবং (দ্বিতীয় দল) হতভাগাদের দল! কতই না হতভাগা তারা!(০৯)

❇আর (তৃতীয় দল) অগ্রবর্তীরা, (তারা) অগ্রবর্তী।(১০)

❇তারা (আল্লাহর) নৈকট্য প্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ(১১)

❇(তারা) নেয়ামতে পরিপূর্ণ জান্নাতে অবস্থান করবে।(১২)

❇(সেই জান্নাতে) বহু সংখ্যক হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য হতে,(১৩)

❇এবং অল্প সংখ্যক হবে পরবর্তীদের মধ্য হতে।(১৪)

❇(আল্লাহর ঐ নৈকট্য প্রাপ্ত ব্যক্তিরা সেই জান্নাতে) সারীবদ্ধভাবে সজ্জিত আসনসমূহে অবস্থান গ্রহণ করবে,(১৫)

❇তারা পরস্পর মুখোমুখী হয়ে হেলান দিয়ে বসবে।(১৬)

❇তাদের চতুর্দিকে চির কিশোরেরা প্রদক্ষিণ করবে(১৭)

❇পান-পাত্র, জগ ও পবিত্র পানীয়পূর্ণ পেয়ালা নিয়ে,(১৮)

❇যে পানীয় পানে তাদের মাথা ব্যাথা হবে না এবং মাতালও হবে না(১৯)

❇এবং এমন ফলমূল নিয়ে যা (আল্লাহর ঐ নৈকট্য প্রাপ্ত ব্যক্তিরা) নিজেরাই বাছাই করে নিবে,(২০)

❇আর (আল্লাহর ঐ নৈকট্য প্রাপ্ত ব্যক্তিদের) ঈস্পিত পাখীর গোশত নিয়ে (প্রদক্ষিণ করবে)।(২১)

❇আর (আল্লাহর ঐ নৈকট্য প্রাপ্ত ব্যক্তিদের) জন্যে থাকবে ডাগরচোখা হুর,(২২)

❇মনে হবে যেন ঝিনুকের ভিতর মুক্তা সাজানো।(২৩)

❇এগুলো তাদের [=আল্লাহর ঐ নৈকট্য প্রাপ্ত ব্যক্তিদের] কৃত কর্মের পুরস্কার স্বরূপ।(২৪)

❇সেখানে [=সেই জান্নাতে] তারা [=আল্লাহর ঐ নৈকট্য প্রাপ্ত ব্যক্তিরা] শুনবে না কোন অসার ও অনর্থক কথা অথবা কোন পাপময় বাক্য,(২৫)

❇‘সালাম’ আর ‘সালাম’ বাণী ব্যতীত।(২৬)

❇আর সৌভাগ্যবানদের দল! কতই না ভাগ্যবান তাঁরা!(২৭)

❇তারা অবস্থান করবে কন্টক বিহীন সিদর বৃক্ষের ছায়াতলে(২৮)

❇এবং অবস্থান করবে ত্বলহ নামক বৃক্ষের ছায়াতলে,(২৯)

❇আর সেখানে থাকবে বিস্তৃত ছায়া(৩০)

❇এবং সদ্য প্রবাহমান জলধারা(৩১)

❇ও প্রচুর ফলফলাদি,(৩২)

❇যা শেষ হবে না এবং নিষিদ্ধও হবে না।(৩৩)

❇আর তাঁদের জন্যে থাকবে সুউচ্চ মর্যাদাপূর্ণ শয্যাসঙ্গী।(৩৪)

❇আমরা তাদেরকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করেছি।(৩৫)

❇আমরা তাদেরকে কুমারী হিসেবে নির্ধারণ করেছি,(৩৬)

❇তাদের প্রেম হবে শুধু তাদের স্বামীদের জন্যে এবং তারা হবে তাদের স্বামীদের সমবয়স্কা।(৩৭)

❇(এতসব নেয়ামত) শুধু ঐ সৌভাগ্যবান দলের জন্য।(৩৮)

❇তাদের [=সৌভাগ্যবান দলের] অনেকেই হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য হতে(৩৯)

❇এবং অনেকেই হবে পরবর্তীদের মধ্য হতে।(৪০)

❇আর হতভাগাদের দল, কতই না হতভাগা তারা!(৪১)

❇তারা থাকবে অত্যুষ্ণ বায়ু ও উত্তপ্ত পানিতে,(৪২)

❇প্রচন্ড ধোঁয়ায় তৈরী কালো ছায়ার নিচে,(৪৩)

❇যা শীতলও নয়, আরামদায়কও নয়।(৪৪)

❇নিশ্চয় তারা ইতোপূর্বে [=দুনিয়াতে] ভোগ বিলাসিতায় মগ্ন ছিল(৪৫)

❇এবং তারা অবিরাম লিপ্ত ছিল ঘোরতর পাপ কর্মে। (৪৬)

❇তারা সর্বদা বলতো, যখন মৃত্যুর পর অস্থি ও মৃত্তিকায় পরিণত হয়ে যাবো, এবপরও কি আমরা পুনরুত্থিত হবো?(৪৭)

❇আর আমাদের পূর্বপুরুষরাও (পুনরুত্থিত হবে)?(৪৮)

❇(হে নবী) বলে দাও, নিঃসন্দেহে পূর্ববতী ও পরবর্তীদের(৪৯)

❇সকলকে একত্রিত করা হবে এক নির্ধারিত স্থানে নির্দ্দিষ্ট সময়ে।(৫০)

❇অতঃপর তোমরা! হে পথভ্রষ্ট মিথ্যাচারীরা!(৫১)

❇তোমরা (জাহান্নামে) অবশ্যই যাক্কুম (নামক নিকৃষ্ট ও দূর্গন্ধময়) বৃক্ষ থেকে আহার করবে।(৫২)

❇অতঃপর তা দিয়ে তোমরা উদর ভর্তি করবে,(৫৩)

❇আর তার উপর আরো পান করবে অতিমাত্রায় উত্তপ্ত জল,(৫৪)

❇আর তা পান করবে তৃষ্ণার্ত উষ্ট্রের ন্যায়।(৫৫)

❇এই হবে প্রতিদান দিবসে তাদের [=পথভ্রষ্ট মিথ্যাচারীদের] প্রতি আপ্যায়ন!!(৫৬)

❇(হে পথভ্রষ্ট মিথ্যাচারীরা!) আমরাই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, তাহলে কেন তোমরা (মৃত্যুর পর পুনরায় তোমাদের সৃষ্টির বিষয়টিকে) সত্য বলে বিশ্বাস করছো না?(৫৭)

❇তোমরা কি ভেবে দেখেছো (নারী গর্ভে পতিত) তোমাদের বীর্য (-এর বিভিন্ন রকম পরিবর্তন) সম্বন্ধে?(৫৮)

❇তোমরা কি তা [=ভ্রুণের অভ্যন্তরে পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তনের মাধ্যমে] সৃষ্টি করো, নাকি আমরা তার সৃষ্টিকর্তা?(৫৯)

❇(হে মানুষ!) আমরা তোমাদের মাঝে মৃত্যু নির্ধারণ করেছি। আর (এ কাজে) আমাদের চেয়ে অন্যেরা কেউ এগিয়ে থাকতে পারবে না। (৬০)

❇(জ্বী হ্যাঁ, মৃত্যুকে নির্ধারণ করেছি) যেন আমরা তোমাদের মত অন্যদেরকে তোমাদের স্থলে স্থান দিতে এবং তোমাদেরকে (অন্য জগতে) নতুনভাবে এমন এক সৃষ্টিতে পরিণত করতে পারি, যা তোমরা জানো না।(৬১)

❇আচ্ছা, তোমরা [=পথভ্রষ্ট মিথ্যাচারীরা!] তো (তোমাদের) প্রথম সৃষ্টি [=বর্তমান জীবন] সম্বন্ধে অবগত হয়েছো, তাহলে তোমরা (মৃত্যুর পর পুনরায় তোমাদের সৃষ্টির বিষয়টিকে) অনুধাবন করো না কেন?(৬২)

❇তোমরা কি ভেবে দেখেছো যে, তোমরা (মাটির বুকে) কী রোপন করছো?(৬৩)

❇তোমরা কি তা অঙ্কুরোদগম করো, নাকি আমরা তা অঙ্কুরিত করি?(৬৪)

❇(জেনে রাখো!) আমরা ইচ্ছা করলে তা [=তোমাদের রোপিত শষ্য] খড়-কুটায় পরিণত করে দিতে পারতাম, তখন তোমরা পরিতাপের সাথে শুধু হতবাক হয়ে যেতে। (৬৫)

❇(আর তখন বলতে,) নিশ্চয় আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে গেলাম!(৬৬)

❇বরং (বলতে,) আমরা বঞ্চিত হয়ে গেলাম!!(৬৭)

❇তোমরা যে পানি পান করো তা সম্পর্কে কখনো ভেবে দেখেছো কি?!(৬৮)

❇তোমরা কি মেঘ হতে তা [=পানীয় জল] অবতীর্ণ করেছো নাকি আমরা তা অবতীর্ণ করে থাকি?(৬৯)

❇আমরা ইচ্ছা করলে তা [=পানীয় মিষ্টি জল] লবণাক্ত ও তিতো করে দিতে পারতাম, এরপরও কি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে না?(৭০)

❇(আচ্ছা,) তোমরা যে অগ্নি প্রজ্জ্বলিত করো সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছো কি?(৭১)

❇তোমরাই কি (আগুন জ্বালানোর জন্যে প্রয়োজনীয়) বৃক্ষরাজী সৃষ্টি করেছো, নাকি আমরা তা সৃষ্টি করে দিই?(৭২)

❇আমরা এ বিষয়টিকে [=গাছপালা সৃষ্টির বিষয়টিকে] (সকলের জন্যে) স্মরণীয় বিষয় হিসেবে তুলি ধরেছি এবং মরুচারীদের জন্যে উপস্থাপন করেছি পণ্য দ্রব্য রূপে।(৭৩)

❇সুতরাং (হে মানুষ!) তুমি তোমার মহান প্রতিপালকের নামে পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো।(৭৪)

❇আমি শপথ করছি নক্ষত্ররাজির অবস্থানের (এবং যেখানে উদিত হয় ও অস্ত যায়)!(৭৫)

❇(হে মানুষ!) নিশ্চয় তা এক মহাশপথ, যদি তোমরা তা জানতে!(৭৬)

❇নিশ্চয়ই তা [=আয়াতসমূহ] এক মহাসম্মানিত কুরআন,(৭৭)

❇যা একটি সুরক্ষিত কিতাবে নিহিত আছে,(৭৮)

❇যার কাছে পুতঃ পবিত্ররা ব্যতীত অন্যরা পৌছুতে পারবে না।(৭৯)

❇যা জগতসমূহের প্রতিপালকের কাছ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে।(৮০)

❇(হে মানুষ! এর পরও) কী তোমরা এই বাণীগুলোকে তুচ্ছ জ্ঞান করবে?(৮১)

❇এবং তোমরা তোমাদের জীবিকাকে মিথ্যারোপের মাধ্যম হিসেবে নির্ধারণ করে নিবে?!(৮২)

❇সুতরাং কেন (মৃতপ্রায় ব্যক্তির) প্রাণ যখন কন্ঠাগত হয় (তখন তোমরা জীবিতরা তা পূর্ব অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে অপারগতা পোষণ করো?!),(৮৩)

❇এবং তখন তোমাদের (মত জীবিত ব্যক্তিদের) তাকিয়ে থাকা ছাড়া অন্য কিছুই করার থাকে না!?,(৮৪)

❇আর আমরা তার [=মৃতমুখী ব্যক্তির] কাছে তোমাদের (মত জীবিতরা, যারা শয্যাশায়ী মানুষটির পাশে অবস্থান নিয়েছো) অপেক্ষা অনেক বেশী নিকটবর্তি, কিন্তু তোমরা তা দেখতে পাও না।(৮৫)

❇অতএব, তোমরা যদি কর্তৃত্বশালী হও(৮৬)

❇তাহলে তা [=কন্ঠাগত প্রাণটি] (মৃতমুখী ব্যক্তির দেহে) ফিরিয়ে আনছো না কেন, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো?!(৮৭)

❇সে যাই হোক, যদি সেই (মৃতপ্রায়) ব্যক্তি (আল্লাহর) নৈকট্য প্রাপ্তদের মধ্যে গণ্য হয়,(৮৮)

❇তাহলে তার জন্য রয়েছে আরাম, প্রশান্তি ও নেয়ামতপূর্ণ জান্নাত;(৮৯)

❇আর যদি সেই ব্যক্তি সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত হয়,(৯০)

❇তাহলে (তাকে বলা হবেঃ) সৌভাগ্যবানদের পক্ষ থেকে তোমাকে সালাম।(৯১)

❇কিন্তু সে যদি পথভ্রষ্ট মিথ্যাচারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়,(৯২)

❇তাহলে (তার জন্যে রয়েছে) উত্তপ্ত পানির আপ্যায়ন,(৯৩)

❇এবং জাহিম (নামক জাহান্নামের) আগুন ।(৯৪)

❇(উপরোক্ত তিনটি দল সমন্ধে যা বলা হলো) তা ধ্রুব সত্য।(৯৫)

❇সুতরাং (হে মানুষ!) তুমি তোমার মহান প্রতিপালকের নামে পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।

(সমাপ্ত)
অনুবাদক – ড. নূরে আলম মোহাম্মদী।

Related Post

মুসলমানদের জন্যে শহীদ হাজী সোলাইমানীর অবদান

Posted by - January 12, 2020 0
১০ই জানুয়ারি ২০২০ শুক্রবার “ইমামিয়া পাক দরবার শরীফ” আয়োজিত শোকসভায় ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের IRGC’র আল কুদস ব্রিগেডের কমান্ডার শহীদ জেনারেল…

সূরা “আল ফাজর”-এর অনুবাদ

Posted by - October 11, 2020 0
(আমি)আল্লাহর নামে(শুরু করছি), যিনি রাহমান(পরম করুণাময় সকল সৃষ্টির জন্যে), যিনি রাহিম(অসীম দয়াবান কিছু বিশেষ ব্যক্তিদের জন্যে)। (আমি) ঊষার-এর শপথ (করে…

সূরা আল-ইখলাস

Posted by - August 15, 2019 0
সূরা “আল ইখলাস”-এর অনুবাদঃ (আমি) আল্লাহর নামে (শুরু করছি), যিনি রাহমান (পরম করুণাময় সকল সৃষ্টির জন্যে), যিনি রাহিম (অসীম দয়াবান…

হযরত ফাতিমা আয্ যাহরা (সাঃ আঃ)-এর শাহাদাত বার্ষিকী-(১৪৪১হিঃ) উদযাপন অনুষ্ঠান পালন

Posted by - January 31, 2020 0
হযরত ফাতিমা আয্ যাহরা (সাঃ আঃ)-এর শাহাদাত বার্ষিকী- (১৪৪১হিঃ) শোক পালন অনুষ্ঠানে মূল্যবান বক্তব্য রাখছেন মুর্শিদ কেবলা – আল্লামা ড.…

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *