জাশনে জুলুস উদযাপনের ইতিহাস

1058 0

মহানবী(সা.)-এর এ পৃথিবীতে আগমনে ফেরেশতাকুল, বৃক্ষরাজি, পশুপাখিসহ এ সৃষ্টি জগতের সকল বস্তু আনন্দে আন্দোলিত হয়েছিল। আকাশে উল্কারাজি নিক্ষিপ্ত করে শয়তান আর শয়তানী জ্বীনদেরকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। পারস্যে অগ্নিপূজকদের অগ্নি নির্বাপিত হয়েছিল আর পারস্যের রাজপ্রাসাদের ১৪টি স্তম্ভ সেদিন চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। বিভিন্ন হাদিস ও ইতিহাস থেকে এর প্রমাণ মেলে। দলিলের জন্য ইবনে কাসীরই যথেষ্ট। মক্কার লোকজন বিশেষ এমন কিছু অনুভব করেছিলেন যা এর পূর্বে কখনো অনুভত হয়নি। তাছাড়া নবীজি(সা.) যখন মক্কা থেকে হিজরত করে মদীনাতে প্রবেশ করেন, তখন মদীনার আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা আর ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ‘তালাআল বাদরু আলাইনা’ বলে দফ বাজিয়ে নেচে নেচে গান গেয়ে গেয়ে অভ্যর্থনা জানিয়েছিল। হিজরতের চেয়ে রাসুলে পাক-এর জন্ম নিঃসন্দেহে আরো বেশি আনন্দের ও খুশির। এজন্যে আল্লাহ্‌ পাক তাঁর হাবীবের আগমনে খুশী প্রকাশ করার জন্য তাঁর বান্দাদের নির্দেশ দিচ্ছেন এভাবেঃ-

“হে আমার হাবীব(সা.)! আপনি উম্মাহকে বলে দিন, মহান আল্লাহ পাক অনুগ্রহ ও রহমত (হুজুরে পাক) প্রেরণ করেছেন, সেজন্যে তারা যেন খুশি প্রকাশ করে| এ খুশি প্রকাশ করাটা সবচাইতে উত্তম, যা তারা সঞ্চয় করে রাখে! (সূরা ইউনূছ ৫৮)। রা-ইসুল মুফাসসিরীন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘রহমত’ দ্বারা এই আয়াতে নবী করীম(সা.)-কে বুঝানো হয়েছে।

কাজেই ঈদে মীলাদুন্নাবী(সা.) উপলক্ষে জাশনে জুলুসের মাধ্যমে আনন্দ করায় কোন নিষেধাজ্ঞা কুরআন ও হাদিসে নেই। আর এই জাশনে জুলুস দ্বারা যেহেতু ইসলামী শরীয়তের কোন বিধি নিষেধের অবমাননা হয় না, সেহেতু নিঃসন্দেহে এটি একটি উত্তম কাজ। রাস্তাঘাট ও বাড়িতে আলোকসজ্জা করা, ঝাড়বাতি লাগানো, সুন্দর জামাকাপড় পরিধান করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, মানুষকে খাওয়ানো- এ সবই ইসলামী শরিয়তে জায়েজ এবং উত্তম কাজ। আর বিভিন্ন যুগের প্রসিদ্ধ ইমামরা এই মতই পোষণ করে গেছেন।

বর্তমান ধারার জাশনে জুলুস প্রথম চালু হয় ৬ষ্ঠ হিজরিতে ইরাকে। কাজেই হিন্দুদের জন্মাষ্টমীর সাথে এর তুলনা করা মূর্খতার নামান্তর। আর যারা খৃষ্টানদের বড়দিনের সাথে এর তুলনা করে, তারাও মুর্খের স্বর্গে বাস করছে। কেননা, খৃষ্টানরাই বরং মুসলমানদের এই ঝাকঝমক পূর্ণ জাশনে জুলুস থেকে আলোকসজ্জা সহকারে বড়দিন পালন শুরু করে। কেননা খৃষ্টান জগতে এই বড়দিন পালন ৩০০ খ্রিঃ সম্রাট কনস্টান্টাইনের যুগ থেকে শুরু হয়। আর তখন বর্তমান কালের মতো করে পালিত হতো না। স্পেনে মুসলমান সভ্যতা আর তুরুস্কের উসমানীদের কাছ থেকে মূলত খৃষ্টানরা এ ধারণা লাভ করে এবং আলোকসজ্জা সহকারে ঝাকঝমক সহকারে তা পালন করে আসছে।

সুতরাং ঈদে মীলাদুন্নাবী(সা.) সুন্নতে এলাহী, সুন্নতে রাসুল ও আহলে বাইত, সুন্নতে সাহাবা এবং সুন্নতে সালেহীন। আর বর্তমান কালের জাশনে জুলুস যদিও ৬ষ্ঠ হিজরিতে প্রচলিত হয় তবে এটি সুন্নাতে হাসানা। আর এতে হিজরতের আনন্দ প্রকাশের মত হওয়ায় সুন্নতে সাহাবার মর্যাদাও অর্জিত হয়েছে। যারা ইতিহাস আর কুরআন হাদিস না বুঝে একে শিরক-বিদাত আর অন্য ধর্মাবলম্বীদের উৎসবের সাথে তুলনা করে তারা একটি মহানেয়ামত থেকে চরমভাবে বঞ্চিত এবং আল্লাহ্‌ পাকের রহমতের ছায়া থেকে বিতাড়িত।
🌺🌹🌺🌹🌺

Related Post

নূরনবী হযরত মোস্তফা (সা.) পর্ব-সাত

Posted by - November 4, 2020 0
নূরনবী মোস্তফা (সা.): (৭ম পর্ব) 📗[হযরত মুহাম্মাদ(সা.)-এর বয়স যতই বাড়তে লাগলো, তাঁর চেহারায় নূরের ঔজ্জ্বল্যও ততই বৃদ্ধি পেতে লাগলো। হযরত…

নূরনবী মোস্তফা (সাঃ) পর্ব-দুই

Posted by - November 1, 2020 0
নূরনবী মোস্তফা (সা.) (২য় পর্ব) 🌺[ইরানী বাদশাহ খসরু আনুশিরভন তাঁর নিজস্ব প্রাসাদ ফিরোযা প্রাসাদে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। কিয়নী রাজবংশের হরিণা নক্সার…

নূরনবী মোস্তফা (সাঃ) পর্ব-তিন

Posted by - November 4, 2020 0
নূরনবী মোস্তফা (সাঃ) (৩য় পর্ব) হযরত মুহাম্মাদ(সা.) তরুণ বয়সে পৌঁছুলেন। তাঁর বিশেষ যেসব বৈশিষ্ট্য ছিল, সে সবের জন্যে তিনি তাঁর…

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মুসলিম বিশ্বের ধর্মীয় ও সংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Posted by - August 25, 2026 0
মাহে রবিউল আওয়াল প্রত্যেক মুমিনের কাছে অত্যন্ত প্রিয় একটি মাস। কারণ, এ মাসে ধরাধামে আগমন করেছেন আমাদের প্রাণের চেয়ে প্রিয়…

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *