আল-কোরআন ও হাদীসের আলোকে ইফতারের সহিহ্ সময়সীমা

284 0

রোযা সম্পর্কে কয়েকটি তাৎপর্যপূর্ণ আয়াত:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

হে ঈমানদাররা! তোমাদের পূর্ববতী লোকদের ন্যায় তোমাদের উপরও রোজাকে অপরিহার্য কর্তব্য রূপে নির্ধারণ করা হলো, যেন তোমরা মুত্তাক্বী হতে পারো।” সূরা আল্ বাক্বারা, সূরা নং ২, আয়াত নং ১৮৩

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَأَيَّامًا مَّعْدُودَاتٍ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ فَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُ وَأَن تَصُومُواْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ“

(এই রোজা) নির্দিষ্ট কয়েক দিন (-এর জন্যে)। কিন্তু তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অসুস্থ কিংবা সফরে থাকে তার জন্যে অপর কোন দিন হতে (রোজা) গণনা (শুরু) করবে, আর যারা (যেমন, বৃদ্ধ মানুষ, দীর্ঘ মেয়াদী অসুস্থ ব্যক্তিরা রোজা রাখতে) অক্ষম তারা তৎপরিবর্তে (কাফফারা হিসেবে) একজন মিসকিনকে আহার্য দান করবে। অতএব, যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় সৎ কাজ করে তার জন্য কল্যাণ এবং যদি তোমরা (মুক্বিম ও সুস্থ ব্যক্তিরা) রোজা রাখো তাহলে তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা (এর গুপ্ত লাভজনক ফলাফল সম্পর্কে) জেনে থাকো।

”شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِيَ أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ يُرِيدُ اللّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلاَ يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُواْ الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُواْ اللّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ

রমযান মাস, (এমন একটি মাস), যে মাসে মানুষের হেদায়াতের জন্যে এবং হেদায়াতের উজ্জ্বল নিদর্শন আর হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্যকারী হিসেবে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে। অতএব, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সেই মাসে (নিজ আবাসস্থলে) উপস্থিত থাকে সে যেন সিয়াম পালন করে এবং যে ব্যক্তি পীড়িত অথবা সফররত অবস্থায় আছে, তার জন্য অপর কোন দিন হতে (সই রোজাগুলো) গণনা করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্যে সহজ করে দিতে চান এবং তোমাদেরকে কষ্ট দিতে চান না। এ সকল কিছুর উদ্দেশ্য হচ্ছে, তোমরা (রোজার) নির্ধারিত সংখ্যা যেন পূরণ করে নিতে পারো। আর তোমাদেরকে হেদায়াত করার জন্যে আল্লাহর মহিমা প্রকাশ করো, (এর মাধ্যমে) যেন তোমরা (আল্লাহর) কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারো।

”أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَآئِكُمْ هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَأَنتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ عَلِمَ اللّهُ أَنَّكُمْ كُنتُمْ تَخْتانُونَ أَنفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنكُمْ فَالآنَ بَاشِرُوهُنَّ وَابْتَغُواْ مَا كَتَبَ اللّهُ لَكُمْ وَكُلُواْ وَاشْرَبُواْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ثُمَّ أَتِمُّواْ الصِّيَامَ إِلَى الَّليْلِ وَلاَ تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ تِلْكَ حُدُودُ اللّهِ فَلاَ تَقْرَبُوهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللّهُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ“

#ইফতার কখন করবেন?
আল্লাহ্ পবিত্র আল-কুরআনে যেভাবে মাগরিব, সূর্যাস্ত ও সন্ধ্যার পরিচয় দিয়েছেনঃ
১। মাগরিবুশ্ শামস বা সুর্যাস্তের স্থান এবং আল গুরুব বা সুর্যাস্তঃ

حَتّٰۤي اِذَا بَلَغَ مَغْرِبَ الشَّمْسِ

”অবশেষে যখন সে পৌঁছল সুর্যাস্তের স্থানে। (সূরা আল-কাহ্ফ ১৮:৮৬)

فَاصْبِرْ عَلٰي مَا يَقُوْلُوْنَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوْعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ الْغُرُوْبِ ۚ

অতএব, তারা যা বলে তাতে তুমি ধৈর্য ধর এবং সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে তোমার প্রভুর পবিত্রতা ও প্রশংসা বর্ণনা করো। (সূরা কাফ ৫০:৩৯)

২। আশ শাফাক্ব বা সন্ধ্যা লালিমা বা লাল আভা অথবা সন্ধ্যকালীন গোধূলি অথবা রক্তজবাঃ

فَلَاۤ اُقْسِمُ بِالشَّفَقِ ۙ

আমি শপথ করি পশ্চিম দিগন্তের সান্ধ্য লালিমার (সূরা আল-ইনশিকাক ৮৪:১৬)

৩। আছাল বা সন্ধ্যা-

وَلِلّٰهِ يَسْجُدُ مَنْ فِي السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ طَوْعًا وَّكَرْهًا وَّظِلٰلُهُمْ بِالْغُدُوِّ وَالْاٰصَالِ ٛ

আসমান ও জমিনে যারা আছে তারা এবং তাদের ছায়াগুলো ইচ্ছায় ও অনিচ্ছায় সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহকে সেজদা করে। (সূরা আর-রা’দ ১৩:১৫)

وَّسَبِّحُوْهُ بُكْرَةً وَّاَصِيْلًا

আর সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করো। (সূরা আল-আহযাব ৩২:৪২)

ۙيُسَبِّحُ لَهٗ فِيْهَا بِالْغُدُوِّ وَالْاٰصَالِ ۙ

…যেখানে সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করে। (সূরা আন-নূর, ২৪:৩৬)

৪। আ’শীয়্যাহ বা সন্ধ্যা-

سَبِّحُوْا بُكْرَةً وَّعَشِيًّا

তোমরা সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করো। (সূরা মারইয়াম, ১৯:১১)

৫। মাসা বা সন্ধ্যা
فَسُبْحٰنَ اللّٰهِ حِيْنَ تُمْسُوْنَ وَحِيْنَ تُصْبِحُوْنَ

“অতএব তোমরা আল্লাহর তাসবীহ্ কর, যখন সন্ধ্যায় উপনীত হবে এবং সকালে উঠবে।” (আর-রুম, ৩০:১৭)

আরও দেখুনঃ
সূরা মারইয়াম, ১৯:৬২; সূরা গাফির, ৪০:৪৬; সূরা আল-ফুরকান, ২৫:৫; সূরা আল-ফাত্হ, ৪৮:৯; সূরা আল-ইমরান, ৭৬:২৫; ৫০:৩৯।

অতএব, উপরোক্ত আয়াতগুলো থেকে সুস্পষ্টভাবেই জানা গেল সূর্যাস্ত গেলে সন্ধ্যা হয়। রাত হয় না। তাই সূর্যাস্ত কিংবা আসাল বা প্রচলিত মাগরিবের আযানের সংঙ্গে সিয়াম পূর্ণ করার/ইতমাতের কোনই সম্পর্ক নেই। সুতরাং সুর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশে শাফাক্ব বা লালীমা চলে যাওয়ার পর যখন রাত অন্ধকারে ছেয়ে যাবে তথা রাতের প্রথম প্রহর শুরু হবে ঠিক তখনি সিয়ামের ইতমাত এর সঠিক সময় সংঘটিত হবে।

রোযার পরিপূর্ণ সময়সীমা সম্পর্কে সূরা বাকারায় আল্লাহর স্পষ্ট হুকুম হলো –

اُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ اِلٰي نِسَآئِكُمْ ؕ هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَاَنْتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ ؕ عَلِمَ اللّٰهُ اَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَخْتَانُوْنَ اَنْفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنْكُمْ ۚ فَالْـٰٔنَ بَاشِرُوْهُنَّ وَابْتَغُوْا مَا كَتَبَ اللّٰهُ لَكُمْ ۪ وَكُلُوْا وَاشْرَبُوْا حَتّٰي يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْاَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْاَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ۪ ثُمَّ اَتِمُّوا الصِّيَامَ اِلَي الَّيْلِ ۚ
“রোযার রাতে তোমাদের জন্য স্ত্রী সম্ভোগ বৈধ করা হয়েছে। তারা তোমাদের পরিচ্ছদ, তোমরাও তাদের পরিচ্ছদ। আল্লাহ জানেন যে, তোমরা ইতিপূর্বে অন্যায় করে নিজেদের ক্ষতি করছিলে। পরে তিনি তোমাদের প্রতি সদয় হয়েছেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। এখন তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সংস্পর্শে যেতে পার এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা বরাদ্দ করে রেখেছেন (অর্থাৎ সন্তান-সন্ততি) তা কামনা করতে পার। আর কালো রেখা থেকে প্রভাতের সাদা রেখা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত (অর্থাৎ রাতের অন্ধকার চলে গিয়ে ভোরের আলো উদ্ভাসিত না হওয়া পর্যন্ত) তোমরা পানাহার কর। তারপর (পরবর্তী) রাত আসা পর্যন্ত (পানাহার বন্ধ রেখে) রোযা পূর্ণ করো। (সূরা আল বাকারা, ২:১৮৭)

এবার দেখব মহান আল্লাহ্ কিভাবে আমাদেরকে রাতের সংঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন।

وَالَّيْلِ اِذَا يَغْشٰي ۙ

”কসম রাতের যখন তা অন্ধকারে ঢেকে যায়। (সূরা আল-লাইল, ৯২:১ )

وَالَّيْلِ اِذَا يَغْشٰیهَا ۪ۙ

“কসম রাতের যখন উহাকে তথা সূর্যকে অন্ধকারে আচ্ছন্ন করে দেয়। (৯১:৪)

وَالَّيْلِ اِذَا سَجٰي ۙ

“শপথ রাতের যখন তা অন্ধকারাচ্ছান্ন হয়।” (সূরা আদ-দোহা, ৯৩:২)

وَّجَعَلْنَا الَّيْلَ لِبَاسًا ۙ

”আর আমিই রাতকে করেছি অন্ধকারাচ্ছন্ন আবরণ-পোশাক হিসাবে। (সূরা আন-নাবা, ৭৮:১০)

وَالَّيْلِ وَمَا وَسَقَ ۙ

“কসম রাতের আর রাত যা কিচ্ছু অন্ধকারে ঢেকে দেয়।” (সূরা আল-ইনশিকাক ৮৪:১৭)

وَهُوَ الَّذِيْ جَعَلَ لَكُمُ الَّيْلَ لِبَاسًا وَّالنَّوْمَ سُبَاتًا وَّجَعَلَ النَّهَارَ نُشُوْرًا

”আর তিনিই তোমাদের জন্য রাতকে অন্ধকারের ঢাকনা হিসাবে নির্ধারণ করেছেন ও নিদ্রাকে করেছেন আরামপ্রদ এবং দিনকে করেছেন জাগ্রত থাকার সময়।” (সূরা আল-ফুরকান ২৫:৪৭)

فَلَمَّا جَنَّ عَلَيْهِ الَّيْلُ رَاٰ كَوْكَبًا ۚ

“অত:পর রাত যখন তার উপর অন্ধকারে আচ্ছন্ন করল, তখন সে কোন একটা তারকা দেখল।” (সূরা আল-আন’আম ৬:৭৬)

وَاٰيَةٌ لَّهُمُ الَّيْلُ ۚۖ نَسْلَخُ مِنْهُ النَّهَارَ فَاِذَا هُمْ مُّظْلِمُوْنَ ۙ

“আর তাদের জন্য একটি নিদর্শন হল রাত। আমি তা থেকে দিন সরিয়ে দেই (দিনের আলো প্রত্যাহার করে নেই), অমনি তারা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।” (সূরা ইয়াসিন ৩৬:৩৭)

উপরোক্ত আয়াতগুলো দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমান হলো যে, কখন মহান রব্বুল আ’লামীন ইতমাম করতে বলেছেন। অবশ্যই তিঁনি রাত পর্যন্ত পূর্ণ করতে বলেছেন এবং কখন রাত হয় তাও সুস্পষ্ট করে বর্ণনা করে দিয়েছেন। আর তাই যখন সূর্যের আলো চলে গিয়ে অন্ধকার হবে তখন আমাদেরকে রোযা ইতমাম বা পূর্ণ করতে হবে।

সন্ধ্যা সম্পর্কে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ব্যাখ্যাঃ
সন্ধ্যা বা সাঁঝ হচ্ছে সূর্যাস্তের ঠিক কয়েক মুহূর্ত পরে গোধূলির সময়ে রাতের ঠিক আগের অবস্থান। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় সন্ধ্যা হচ্ছে সেই সময়টি যা ঠিক সূর্যাস্তের পর ও রাতের ঠিক আগে ঘটে। সন্ধ্যার মধ্যবর্তী পর্যায়ে আকাশ বেশ পরিষ্কার থাকে যখন কৃত্রিম আলোকসজ্জা ছাড়াই বাইরে পড়ার জন্য পর্যাপ্ত আলো থাকতে পারে। সন্ধ্যার শেষদিকে যখন পৃথিবী এমন একটি বিন্দুতে অবস্থান করে যখন তার কেন্দ্র স্থানীয় দিগন্তের ৬ ডিগ্রি অবস্থান থাকে, সেই সময় বাইরে সাধারণভাবে কোন কিছু পড়া যাবে না, কৃত্রিম আলোকসজ্জা প্রয়োজন হয়। গোধূলি বা সন্ধ্যা শব্দটি সাধারণত জ্যোতির্বিজ্ঞানকেন্দ্রিক সন্ধ্যা বা রাত শুরু হওয়ার আগের গোধূলির অন্ধকার অবস্থানকে বোঝায়।

সন্ধ্যার শেষ সময় হচ্ছে গোধূলির একেবারে শেষ মুহূর্ত। রাতের আকাশের ন্যূনতম উজ্জ্বলতা খেয়াল করার আগের সময়গত অবস্থানকে গোধূলি বলে। তবে সন্ধ্যাকে তিনটি স্তরে ভাগ করা যায়।

১। প্রাথমিক বা সিভিল সন্ধ্যাঃ এ সময় সূর্য দিগন্তের নীচে ৬ ডিগ্রিতে অবস্থান করে। সূর্যাস্তের সময় থেকেই এই অবস্থান শুরু হয়। এই সময়ে আকাশের বিভিন্ন বস্তু (যেমন তারা) আলাদা ও আবহাওয়ার অবস্থার উপর নির্ভর করে খালি চোখে দৃশ্যমান হতে শুরু হয়। আকাশে এই সময় বিভিন্ন রঙ যেমন কমলা ও লাল দেখা যায়। বায়ুমণ্ডলের পরিস্থিতি এবং অবস্থানের উপর নির্ভর করে তখন ঘরের বাইরে কৃত্রিম আলো প্রয়োজন হতে পারে।

২। নটিক্যাল সন্ধ্যা: এমন অবস্থায় সূর্য দৃশ্যত সন্ধ্যায় দিগন্তের নীচে ১২ ডিগ্রি অবস্থানে চলে যায়। এই মুহুর্তে আকাশের তারা ও গ্রহগুলি উজ্জ্বল হয়ে উঠে।

৩। জ্যোতির্বিজ্ঞানে সন্ধ্যা, যা সরলভাবে সন্ধ্যা নামে পরিচিত: এ সময় দিগন্তের নীচে সূর্য ১৮ ডিগ্রিতে অবস্থান করে। এ সময় থেকেই সন্ধ্যা শুরু হয়। এই সময়ের পরে সূর্য আর আকাশকে আলোকিত করে না।

হিজরী বছর গণনায় চাঁদ দেখার উপর ভিত্তি করে পরবর্তী #রাত গণনা শুরু হয়। আল-কোরআন ও হাদিস অনুযায়ী সূর্যাস্ত শেষ মানে রাত শুরু নয় সন্ধ্যা/গোধূলি শুরু। আর গোধূলি শেষ হয়ে অন্ধকার নেমে এলে রাত শুরু হয়। অতএব সূর্যাস্তের পর পরই রাতের অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ না দেখার পূর্বে দিনের আলোয় পানাহার করে ফেললে রোজার সময়সীমা অপরিপূর্ণ থেকে যায়। আল্লাহর হুকুম অনুসারে রোজার সময়সীমা পরিপূর্ণতার জন্য পরবর্তী রাত শুরু হওয়াটা ফরজ শর্তের অন্তর্ভুক্ত। ‌

অতএব কোটি কোটি মানুষকে অনুসরণ করে ওহাবীদের শেখানো নিয়মে সূর্যাস্তের পরপরই আযানের সাথে সাথে ইফতার করবেন না। আপনি আল্লাহর হুকুম মেনে রোজা পালন করবেন কি করবেন না তা আপনার বিবেচনাধীন। আল্লাহ সকলকে সঠিক নিয়মে রোজা পালন করার তৌফিক দান করুন। 🤲

https://sunrise-sunset.org/calendar/

https://en.m.wikipedia.org/wiki/Twilight/

https://badesaba.ir/

————————————————————-

Related Post

রোযার মাসআলা

Posted by - March 15, 2023 0
রোযার মাসআলা ১। রোজার সময়সীমার ভিতরে রোজা ভঙ্গের যে কোন একটি কারণ সম্পাদন করলেই রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। তাই, রাতের…

গুরুত্বপূর্ণ কিছু মাসআলা

Posted by - August 15, 2019 0
মাসআলা নং ১ আসল কারণ না জেনে, ঘটনার পর্যাপ্ত প্রমাণাদি না নিয়ে, নিশ্চিত না হয়ে কারো পিছনে কোন মন্তব্য করা…

হাদিসের দৃষ্টিতে খুমস

Posted by - May 22, 2022 0
❇️ সার সংক্ষেপঃ কুরআনে খুমসের বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়েছে। আহলে বাইত (সা.)-এর বর্ণনায় খুমস আদায়ের খুটিনাটি বিবরণ ও পদ্ধতি বর্ণিত…

মাসআলা

Posted by - October 3, 2019 0
মাসআলাঃ ফরজ অথবা নফল যে কোন প্রকার নামাজের প্রথম ও দ্বিতীয় উভয় রাকাতে সূরা ইখলাস পড়ার ব্যাপারে কোন অসুবিধা নেই।আর…

চেহ্লুম বা চল্লিশা পালন

Posted by - September 16, 2022 0
মৃত মুমিন মুসলমানের জন্যে যে কোন দিন কোন ভাল ও নেক কাজ করে সাওয়াব ‎পাঠানো অত্যন্ত কল্যানকর ও আমাদের জন্যে…

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *