রোজার কিছু জরুরী টিপস

1167 0

*এই গরমে রোজাঃ

কী খাবেন, ✍️ কী খাবেন না*

🕌 আজকে পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম রোজা। এবারের রোজায় গরম যেমন 🔥 তেমনি দিনটাও বড়।🌞 তাই অনেকেই চিন্তা করেন এত বড় দিনে রোজায় শরীরের ক্ষতি হবে কিনা। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মতে, কেউ যদি সঠিক খাদ্য নির্বাচন করে সেহরী ও ইফতারে খান এবং কিছু সাধারণ স্বাস্থ্য টিপস মেনে চলেন তাহলে তার রোজার কষ্ট যেমন কমে যাবে এবং তেমনি স্বাস্থ্যেরও উন্নতি হবে।
🔈🔻🔈🔻
*সেহেরীতে যা খাবেনঃ*
রোজায় স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসের চেয়ে একটু আগেই সকালের নাস্তাটি করতে হয়। অনেকেই মনে করেন, সারাদিন যেহেতু না খেয়ে থাকতে হবে তাই সেহরীতে যত বেশি পরিমানে খাওয়া যায় ততই ভাল। বিষয়টি মোটেও ঠিক না। বরং পাকস্থলীর স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতা অনুসারেই খাবার খাওয়া উচিত। কারণ চার-পাঁচ ঘণ্টা পার হলেই খাদ্যগুলো পাকস্থলী থেকে অন্ত্রে গিয়ে হজম হয়ে যায়।
সেহরীর খাবারটি হতে হবে মুখরোচক, সহজপাচ্য, সহজে হজমযোগ্য।
🚫অধিক তেল, অধিক ঝাল, অধিক মসলা, অধিক চর্বি জাতীয় খাবার একেবারেই খাওয়া উচিত না। কারণ এতে শরীরে অতিরিক্ত তাপ তৈরি হয়।
🚫সেহরীতে শুকনা খাবার ও প্রক্রিয়াজাত খাবার না খাওয়াই ভাল। কারণ এটি পানিশুণ্যতা তৈরী করে।
🚫চা, কফি বা এ জাতীয় খাবার সেহরীতে না খাওয়াই ভাল।
✔️ভাতের সাথে পর্যাপ্ত সবজি, মাছ ও প্রয়োজন মত মাংস খেতে হবে। প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার বেশি খেলে দেরীতে ক্ষুধা লাগবে এবং শরীরেও পর্যাপ্ত শক্তি থাকবে।
যেসব খাবারে প্রচুর পরিমানে পানি আছে সেসব খাবার যেমন কমলা, লেবু, শসা, তরমুজ জাতীয় ফল খেতে পারেন।
সেহরীর সময় পর্যাপ্ত পরিমান পানি পান করতে হবে। কমপক্ষে এক লিটার পানি পান করুন।
🔸✳️🔸✳️🔸
*ইফতারে যা খাবেনঃ*
আমাদের দেশে ✍️ ইফতারিতে খাবারের যে বাহার দেখা যায়, তার বেশিরভাগই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। বিশেষ করে বাইরে তৈরী ভাজা-পোড়া খাবার খুব বেশী খেতে দেখা যায়। আবার অনেককে দেখা যায় ইফতারী বিরিয়ানি, তেহারি ইত্যাদি খেয়ে থাকে যা মোটেও ঠিক না।🚫
এছাড়া, বাইরে তেলে ভাজা আলুর চপ, বেগুনি, পেয়াজু ইত্যাদি স্বাস্থ্য সম্মত নয়। বরং এগুলো খেলে বদ হজমের সম্ভাবনা থাকে।
রোযা এলেই হালিম আর তেহারির দেকানে যেন একটু বেশীই ভীড় জমে। তবে, সারাদিন রোজার পর এই দুটি খাবারই ক্ষতিকর।🚫
✔️ইফতারে লেবুর শরবত, খেজুর, শসা, তরমুজ, বাসায় তৈরি ছোলা, পেয়াজু খেতে পারেন।
✔️এছাড়া ফরমালিন ও কার্বাইডমুক্ত মৌসুমি ফল যেমন আম, কলা, আনারস খেতে পারেন। এতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন ও মিনারেল থাকে যা কোষ্ঠাকাঠিন্য দূর করে ও হজমে সাহায্য করে।
✔️এছাড়া ইফতারে বাসায় তৈরী নুডলস, জিলাপীও খেতে পারে।
🔈 *ইফতারে যেটি সবচেয়ে জরুরি তা হলো প্রচুর পরিমানে বিশুদ্ধ পানি পান করা। এছাড়া বাসায় তৈরী করা শরবতও খেতে পারেন।*
🔻🔻🔻🔻🔻
*রোজার কিছু জরুরী টিপসঃ*

👁‍🗨সেহরী না খেয়ে বা শুধু পানি খেয়ে রোযা রাখবেন না।

👁‍🗨খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে ধীরে ধীরে খাবেন, যা আপনার হজমে সহায়ক হবে।

👁‍🗨ইফতার ও সেহেরীর সময়ের মধ্যে অন্তত পক্ষে আট থেকে দশ গ্লাস পানি পান করুন।

👁‍🗨রান্নার কাজে খাবারে ডালডার পরিবর্তে সয়াবিন তেল ব্যবহার করুন, তবে যতটা সম্ভব কম পরিমাণে ব্যবহার করুন।

👁‍🗨অতিরিক্ত লবণ ও লবণাক্ত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।

👁‍🗨ঘমানোর আগে ও সেহেরীর পরে অবশ্যই দাঁত ব্রাশ করবেন।

👁‍🗨রোজা রাখা অবস্থায় সকালে ব্যায়াম না করে ইফতারের সামান্য সময় পর ব্যায়াম করা উচিত।
♻️🔻♻️🔻♻️
↯↻↯↻↯

🌹হযরত ঈসা(আ:)🌹

✍”খাবার যখন গ্রহণ করবে তখন পেট ভরার পূর্বেই হাত গুটিয়ে নাও। কেননা, খাবার পরিমানের চেয়ে বেশী হয়ে গেলে তোমার চেহারা থেকে লাবন্যতা ও উৎফুল্লতা চলে যাবে।”

📚বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ১৪, পৃঃ নং ৩২০।

Related Post

চোখে সুরমার ব্যবহার

Posted by - August 23, 2019 0
চোখে সুরমার ব্যবহার সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর চমৎকার কয়েকটি হাদিসঃ একঃ “চোখে…

সুস্থ থাকার ছয়টি সুত্রঃ

Posted by - September 6, 2019 0
🔴সুস্থ থাকার ছয়টি সুত্রঃ 🔺খাবারে থাকবে লবন কম < সির্কা থাকবে বেশী। 🔺খাবারের লোকমা ছোট হবে < চাবাতে হবে বেশীক্ষণ।…

শাষ কষ্টের চিকিৎসা

Posted by - August 27, 2019 0
❖ শাষ কষ্ট অথবা এলার্জি দূর করার জন্যে (নিয়ত করে) প্রতিদিন সূরা ফুরক্বানের ১১নং আয়াত তিলাওয়াত করুন। ইনশাআল্লাহ ভাল হয়ে…

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *