হযরত ইব্রাহিম (আঃ) কাকে কোরবানি দিতে নিয়ে গিয়েছিলেন?

858 0
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
 
🔊 কোন কোন মুসলমান ইসলামের বিরোদ্ধে ইহুদীদের অপপ্রচারের ফলশ্রুতিতে এ কথা প্রচার করেন যে, হযরত ইব্রাহীম(আ.), হযরত ইসহাক(আ.)-কে কুরবানি দিতে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাই, তাদের কথা অপনোদনের লক্ষ্যে আল কুরআন থেকে প্রমাণিত হয় যে, হযরত ইবরাহিম(আ.), হযরত ইসমাইল (আ.)- কে কুরবানি করতে নিয়ে গিয়েছিলেন, হযরত ইসহাক (আ.)-কে নয়। তার প্রমাণ নিম্নরূপঃ
 
✍[কোরআনের সূরা আস্ সাফফাতের ৯৯নং আয়াত থেকে ১১১ নং আয়াত পর্যন্ত আল্লাহ্ যে ক’টি বিষয়ের অবতারণা করেছেন তন্মোধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেঃ
 
✔ক) নিজ পালনকর্তার দিকে হযরত ইবরাহিম(আ.)-এর যাত্রা এবং আল্লাহর হেদায়াত কামনা।
 
✔খ) আল্লাহর কাছে একটি নেক সন্তানের জন্যে প্রার্থনা।
 
✔গ) আল্লাহ্ তাকে এক ধৈর্যশীল সন্তানের সুসংবাদ দান করলেন।
 
✔ঘ) অত:পর হযরত ইবরাহিম(আ.) স্বপ্ন দেখলেন যে, তার পুত্রকে জবেহ্ করছেন আর তা অকপটে তার পুত্রকে বলেন এবং পুত্র বাবার কাজে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিলেন।
 
✔ঙ) অবশেষে হযরত ইবরাহিম(আ.) স্বীয় পুত্রের গলায় ছুরি চালালে আল্লাহ্ তার কুরবানি কবুল করেন এবং তার প্রশংসা করেন।
 
🌹কিন্তু উক্ত আয়াতসমূহে হযরত ইবরাহিমের পুত্রের কোন নাম উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়টি ১১২ নং আয়াতে উল্লেখিত হযরত ইসহাক(আ.) সম্পর্কে বর্ণিত সুসংবাদের বিষয়টি এবং হযরত ইসহাকের নামটির সাথে সম্পর্কীত নয়। কেননা, ১০১ নং আয়াতে আল্লাহ্ একটি সুসংবাদ দিয়ে কুরবানির ঘটনার বর্ণনা শুরু করেছেন। যখন আরেকটি সুসংবাদ ১১২নং আয়াতে উল্লেখ করছেন, তখন এর অর্থ হচ্ছে পূর্বের বিষয়টির বর্ণনা সমাপ্ত হয়েছে এবং নতুন বিষয়ের অবতারণা হয়েছে। অর্থা‌ৎ পূর্বে বর্ণিত জবেহের ঘটনার সাথে পরের আয়াতে বর্ণিত হযরত ইসহাক(আ.)-এর কোন সম্পৃক্ততা নেই। আর এ আয়াতসমূহের ব্যাখ্যায় বিভিন্ন তফসিরকারক হযরত রাসূল(সা.) থেকে বিভিন্ন হাদিস বর্ণনা করেছেন, যেখানে হযরত ইসমাইলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। রাসূল(সা.) বলেছেন: “আমি দুই জবেহকৃত ব্যক্তির সন্তান‌‍।” (তাফসির আত্ তাবারী, খন্ড ৬, পৃ: ১৫২৮)। এটা স্পষ্ট যে, রাসূল(সা.) ছিলেন হযরত ইসমাইলের বংশের ধারা থেকে এবং হযরত আবদুল্লাহর সন্তান। আর মুসলিম ঐতিহাসিকগণ তাদের স্ব স্ব গ্রন্থে তাই বলেছেন। হযরত ইসমাইল হযরত ইসহাকের চেয়ে বয়সে বড় এবং ইবরাহিম(আ.)-এর প্রথম সন্তান ছিলেন। তাই, ইবরাহিম(আ.) ৮৬ ব‍‍ৎসর বয়সে আল্লাহর কাছে যে পুত্র সন্তানের প্রার্থনা করেছিলেন তিনি হলেন ইসমাইল (আ.)। আর ইসহাক (আ.) যখন জন্মগ্রহণ করেন তখন ইবরাহিম (আ.)-এর বয়স ছিলো ৯৯। তাই স্বভাবত:ই ইবরাহিম (আ.) তার প্রথম সন্তানকে আল্লাহর রাহে কুরবান করার জন্যে নিয়ে যান।
📚তাফসিরে ইবনে কাসির, খন্ড, ৭, পৃ:২৩।] 
 
↯↻↯↻↯ 

Related Post

আল্লাহর উপর ভরসা

Posted by - August 14, 2019 0
🍃ছুরি হযরত ইসমাঈল 🌺🍃আলাইহিস সালাম-কে হত্যা করতে পারেনি…   🌹আগুন হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম-কে পোড়াতে পারেনি…   🌹হাঙ্গর হযরত ইউনুস…

উপদেশ প্রার্থী এক ব্যক্তি

Posted by - August 31, 2019 0
🌹উপদেশ প্রার্থী এক ব্যক্তি🌹 ✍️[এক আরব বেদুঈন মদীনা শহরে এসে রাসূলে আকরাম (সা.)-এর খেদমতে হাজির হয়ে আবেদন করলো, “হে আল্লাহর…

শিক্ষনীয় উক্তি

Posted by - October 10, 2019 0
নীচের উক্তিগুলো শিক্ষনীয়  তিনটি জিনিসকে চিন্তা করে ব্যবহার করুনঃ 1⃣ কলম 2⃣ কদম 2⃣ জিহ্বা ☑ তিনটি জিনিসের উপর ভরসা করা ঠিক নয়ঃ 1⃣ নদীর…

প্রশান্তিময় জীবনের সুত্র

Posted by - August 29, 2019 0
✍ সুখ মানে অর্থ কিংবা বাড়ী গাড়ীর মালিক হওয়া নয়। সুখ মানে প্রশান্তিময় জীবন। 🍀প্রশান্তিময় জীবনের সুত্রঃ ❓কোন এক বুযুর্গ…

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *